জানেন ঘূর্ণিঝড়ে কোন সংকেতের কি অর্থ?

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঘূর্ণিঝড় আসলে আমরা দেখতে পাই নদী ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ১ থেকে ১১ পর্যন্ত সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়। এই প্রতিটি সংকেতের রয়েছে আলাদা আলাদা অর্থ। আর এই সংকেতগুলো তৈরি করা হয়েছে নদীবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরের জন্য।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষকরা বলছেন, সংকেতগুলো তৈরি করা হয়েছে শুধু সমুদ্রবন্দর এবং নদীবন্দরকে লক্ষ্য করে। এই সংকেত জনসাধারণের জন্য নয়, তবে তাদের জন্যও এখন সংকেতের ব্যবস্থা করা সম্ভব। কারণ ঘূর্ণিঝড় কোন এলাকার ওপর দিয়ে কখন অতিবাহিত হবে সেটি বের করার প্রযুক্তিও এখন আছে।

সংকেতের প্রকারভেদ

কত ধরনের সংকেত রয়েছে, তা সাধারণের জন্য বোঝা বেশ মুশকিল। সংকেত দেখে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান উপকূল থেকে কত দূরে রয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ, কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের স্থান পরিবর্তনের গতিবেগ কত, এর কোনোটিই বোঝা যায় না।

কেবলমাত্র কোন দিক থেকে বাতাস বইছে, আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হচ্ছে এবং বিপদ আরও বাড়ছে কিনা, তা বোঝা যায়। তারপরও উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ এই সংকেতগুলোই অনুসরণ করে থাকে।

সূত্র মতে, বাংলাদেশে দুই ধরনের সংকেত ব্যবহার করা হয়। সমুদ্রবন্দরের জন্য ১১টি সংকেত এবং নদীবন্দরের জন্য ৪টি সংকেত। ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বিশ্লেষণ করে ১১টি সংকেতকে আবার ৫ ভাগে ভাগ করা হয়।

সমুদ্রবন্দরের জন্য সংকেত:

১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত; ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত; ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত; ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত; ৫, ৬ ও ৭ বিপদ সংকেত; ৮, ৯ ও ১০ মহাবিপদ সংকেত; ১১ ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ডতার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

লাল পতাকা কখন কয়টা

সমুদ্রবন্দরে বিপদ সংকেত দেওয়া হলে সেখানে একেক সময় একেক সংখ্যার লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয় এবং রেডিও-টেলিভিশনে বারবার বিপদ সংকেতের খবর প্রচার করা হয়। ঘূর্ণিঝড় এবং ঝড়ের সংকেত সম্পর্কে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রত্যেকের জানা উচিত বলে মনে করেন দুর্যোগ গবেষকরা।

এছাড়া এগুলো সম্পর্কে সবার জানা না থাকে, সেক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা কাজে না লাগার শঙ্কা থাকে।

একটি লাল পতাকা : ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের ক্ষেত্রে সমুদ্রবন্দর এলাকায় একটি করে লাল পতাকা ওড়ানো হয়ে থাকে।

এখানে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেতের অর্থ হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরের কোনও একটা অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া বইছে এবং সেখানে ঝড়ের সৃষ্টি হতে পারে। ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেতের অর্থ হলো সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে। আর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের অর্থ বন্দরটি দমকা হাওয়ার সম্মুখীন।

দুইটি লাল পতাকা : ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের ক্ষেত্রে দুইটি লাল পতাকা উড়িয়ে সতর্কতা জানানো হয়। এখানে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের অর্থ সংশ্লিষ্ট এলাকার সমুদ্রবন্দর ঝড়ের সম্মুখীন হচ্ছে, তবে বিপদের আশঙ্কা এমন নয় যে, চরম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫ নম্বর বিপদ সংকেতের অর্থ হচ্ছে অল্প বা মাঝারি ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে এবং ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে (মোংলা বন্দরের বেলায় পূর্ব দিক দিয়ে)।

৬ নম্বর বিপদ সংকেতের অর্থ হচ্ছে অল্প বা মাঝারি ধরনের ঝড় হবে এবং আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে (মোংলা বন্দরের বেলায় পশ্চিম দিক দিয়ে)।

৭ নম্বর বিপদ সংকেতের অর্থ হলো, অল্প অথবা মাঝারি ধরনের ঘূর্ণিঝড় হবে এবং এজন্য আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি সমুদ্রবন্দরের খুব কাছ দিয়ে অথবা ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

তিনটি লাল পতাকা : ৮ থেকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ও ১১ নম্বর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া সংকেতের ক্ষেত্রে তিনটি লাল পতাকা ওড়ানো হয়ে থাকে। ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের অর্থ— প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় হবে এবং বন্দরের আবহাওয়া খুবই দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে (মোংলা বন্দরের বেলায় পূর্ব দিক দিয়ে)।

৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের অর্থ হলো— প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে (মোংলা বন্দরের বেলায় পশ্চিম দিক দিয়ে)। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের অর্থ প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে এবং ঘূর্ণিঝড়টি বন্দরের খুব কাছ দিয়ে, অথবা ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

১১ নম্বর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেতের অর্থ হচ্ছে— ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তার বিবেচনায় চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, এই সংকেতগুলো নদী ও সমুদ্রবন্দরকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়। সাধারণ মানুষ অনেকে এসব বন্দর চোখেও দেখেনি। ফলে এই সংকেতগুলো তাদের জানা না জানায় কিছু যায় আসে না। তবে বন্দরের সংশ্লিষ্টরা এ থেকে সতর্ক হতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *