প্রেমের কাছে হার মানলো রাজপ্রথা, দেহরক্ষীকে বিয়ে থাই রাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রেম মানে না বয়স। মানে না উচ্চ-নীচ বিভেদ। আরও একবার সেই কথা প্রমাণ করে দিলেন থাইল্যান্ডের রাজা। এমন এক পদমর্যাদার অধিকারী হয়েও তিনি বিয়ে করলেন নিজের দেহরক্ষীকে।

বুধবার থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী সুথিদাকে বিয়ে করেন ও তাকে রানির মর্যাদা দেন। রয়্যাল গেজেটে এই খবর প্রকাশ হয়েছে বুধবার। প্রকাশ পেয়েছে বিয়ের একটি ফুটেজও।

থাইল্যান্ডের টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে এই খবর দেখানো হয়েছে। তবে এর আগে রাজপরিবারের অন্দর ও বাহিরমহল যে একথা জানত না, তা নয়। থাইল্যান্ডবাসী জানত তাদের রাজা দেহরক্ষীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কিন্তু সবটাই কানাঘুষো ছিল।

কখনও কেউ এই খবর প্রকাশ্যে আনেননি। বিয়ের পর, সম্পর্কে সিলমোহর পড়ার পরই সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আনা হয়। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রয়াত হন থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজ। তারপর থেকে রাজকার্য সামলাতেন যুবরাজ ভাজিরালংকর্ন।

আগামী শনিবার বুদ্ধ ও ব্রাহ্মণ মতে তার অভিষেক সম্পন্ন হবে। এরপর ব্যাংককে বিরাট শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। ২০১৪ সালে সুথিদা তিদজাইকে ভাজিরালংকর্নের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বাহিনীতে বহাল করা হয়। এর আগে থাই এয়ারওয়েজের আগে ফ্ল্যাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন তিনি।

সূত্রের খবর, তখন থেকেই সুথিদার প্রেমে পড়েন যুবরাজ। কিন্তু রাজপরিবারের তরফে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি কোনওদিনই। তবে ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর সুথিদাকে তিনি থাই রয়্যাল সেনাবাহিনীর জেনারেল পদে বহাল করেন। সম্পর্ক ক্রমে দৃঢ় হতে থাকে। ২০১৭ সালে তাঁকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর উপপ্রধান পদে বহাল করেন ভাজিরালংকর্ন।

তবে সুথিদাই ভাজিরালংকর্ন প্রথমা স্ত্রী নন। এর আগে আরও তিনবার বিয়ে করেছিলেন রাজা ভাজিরালংকর্ন। তার সাত সন্তানও রয়েছে। প্রথম বিয়ে ১৯৭৭-১৯৯১, ২য় বিয়ে ১৯৯৪-১৯৯৬ ও তৃতীয় বিয়ে ২০০১-২০১৪। সবশেষ সুথিদাকে বিয়ে করলেন রাজা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *